মঙ্গলবার, ৫ জানুয়ারি, ২০১৬

ছেঁড়া পকেট


কামরুল দেখতে কিছুটা চোরের মতো।মানে তার ভেতর একটা চোর চোর ভাব আছে।এসএসসি পরীক্ষার হলে এসে ম্যাজিস্ট্রেট প্রতিদিন কামরুলকেই চেক করে।পকেটগুলি হাতিয়ে হাতিয়ে দেখে।কামরুল তো বেঞ্চের নিচেই টেবিলের ড্রয়ারের মতো বানিয়ে নিয়েছে নকল রাখার জন্য।ওকে দেখলেই ম্যাজিস্ট্রেট বুঝে যান, নকল করছে। কিন্তু ধরতে পারেন না। প্রতিদিন পকেট খুঁজে একটা নকলও পাওয়া গেলোনা। 
অপর দিকে কামরুল খুব বিরক্ত হয়। প্রতিদিন তাকেই চেক করে, শালা ম্যাজিস্ট্রেট।সে তার পরামর্শ টিমের সাথে পরামর্শের জন্য বসে।তারপর খুশি মনে উঠে আসে কামরুম।পরদিন পরীক্ষা চলছে যথারীতি।সকলেই অপেক্ষা করছে, কামরুল আজ খেলা দেখাবে।কলম থামিয়ে সকলের পিনপতন নিরবতা।হলে প্রবেশ করেন ম্যাজিস্ট্রেট।কামরুলের প্যান্টের পকেটে হাত দিয়েই সাপ স্পর্শ করা ভয় পাওয়ার মতো করে হাত উঠিয়ে নেন তিনি।জিজ্ঞেস করেন, "তোমার প্যান্টের পকেট ছেঁড়া কেন?নিচে কিছু পরোনি কেন?
কামরুল কাতরভাবে বলে, " স্যার, গরীব মানুষ। ছিঁড়ে গেছে।"
চলে যেতে যেতে ম্যাজিস্ট্রেট বলেন-"পকেট ছেঁড়া থাকা ভালো নয়।"
ম্যাজিস্ট্রেট চলে যাবার পর কামরুম বিড়বিড় করে- "নকল ধরতে গিয়ে আসলটা ধরে ফেলাও ভালো কাজ নয়।"

আর একটি পাপ করতে চাই

হিরোশিমা শহরের মতো আগুন দেখে
আমরাও পালাচ্ছিলাম নিরাপদ ভূমির প্রত্যাশায়
ফেলে যাচ্ছিলাম গচ্ছিত টাকা, সোনা আর প্রিয় আসবাব
বেঁচে থাকার নেশাটা মরা- ঘোড়াকে যৌবন দান করে,
আমিও ছুটেছিলাম বজ্রমানবের মতো।

একটা পুকুরের জলে আমরা আমাদের নিরাপদ ভাবলাম
সেখানে শরীর ডুবিয়ে বসে ছিলাম অসংখ্য মানুষ
আমার সামনের বৃদ্ধা রমণীটি
আমাকে সংগমের আহ্বান করেন,
মৃত্যুর পূর্বে সেটাই ছিলো তার শেষ প্রার্থনা।

মৃত্যু ভয়, বাঁচার নেশা আর সংগমের লোভ
আমাকে আর এক পৃথিবীর অনুভূতি দিয়ে যায়,
পুকুরের শান্ত জলের উপর দিয়ে আগুন চলে যাওয়ার সময়ে
আমরা দীর্ঘক্ষণ জলের গভীরে ডুবে ছিলাম
আমার ডুবন্ত মাছ-চোখে ভাসছিলো বৃদ্ধা রমণীটির কাতর চোখ।

তারপর আগুন খেলা থেমে গেলে
আমরা স্থলে উঠে এলাম
রমণীটিকে আমি আর খুঁজতে লাগলাম
বেঁচে আছি বলে আর একটি পাপ করার ইচ্ছে হলো আমার,
কিন্তু তিনি তখন পুকুরের জলে ভাসছেন।

০৫/০১/২০১৬
ঢাকা, বাংলাদেশ।



 




সোমবার, ৪ জানুয়ারি, ২০১৬

সংসার

প্রতি মধ্যরাতে কাপড় ধূতে গিয়ে তার মনে হয়
খুব বেশি সংসারী পুরুষের সংসার টেকেনা
পুরুষের গায়ে কিছুটা ঘামের গন্ধ থাকুক,
সংসার বিবাগী পুরুষকে জড়িয়ে রাখার
মাতাল এক নেশা আছে নারীদের।

নারীরা যাকিছু ভালোবাসেনাওভেবেছো,
তা-ই মূলত ভালোবাসে নারী
বিবাগী পুরুষেরা আজকাল সংসার করে
খুব বেশি সংসারী পুরুষেরা সংসার হারায়।

০৫/০১/২০১৬
ঢাকা, বাংলাদেশ।     

প্রচ্ছদ কাহিনী


( ভূমিকম্পের ৩০ মিনিট পূর্বে লেখা একটি ক্ষুদ্র কবিতা।
হতে পারতো এটাই শেষ লেখা।বেঁচে থাকাটা সুখের।)
==================================
রাতজাগা কুকুরেরা কেন ডাকে তারাই শুধু জানে 
হয়তো বা জানা আছে সিঁধকাটা চোরের কিছুটা
ভোর হতে খুব বেশি দেরি নেই।
পঙ্খিরাজের চোখে ঘুম ছিলো না এতোক্ষণ
রাজকন্যা তালা বন্ধ করে চলে গ্যাছে বলে
দুঃখী এক রাজপুত্রের প্রচ্ছদ-কাহিনী।
তিনঘোড়া ছবিটা বেঁকে আছে কতকাল
সোজা হয়ে দাঁড়াবার সময় আসেনা
বিষণ্ণ শীতের রাত,
সুর্যোদয়ের প্রতীক্ষায় বসে থাকে রাজপুত্র।

রবিবার, ৩ জানুয়ারি, ২০১৬

কবিদের কাছে এসো না


মধ্য রাতেও না ঘুমানো নারীরা কবিদের কাছে এসো না
কবিতার শব্দের নাড়িভুঁড়ি ব্যবচ্ছেদ করতে এসো না
বরং স্বামীর পাঁজরের হাড়গুলি গুনে দ্যাখো 
ক্রমশ কমেই চলেছে বামের সারিটা।
এ শহরে শিশির ঝরছে তুষারের মতো
মরা ঘোড়ায় চেপে বসে আছেন রাজকুমার
তোমাকে পেলেই নিয়ে যাবেন শ্মশানের ঘাটে
তুমি জ্বলে যাবে নারী! পালাও
হজমবিহীন শব্দরা তোমাকে গর্ভপাতের বেদনা দেবে।
০৩/০১/২০১৬
ঢাকা, বাংলাদেশ।

ছাপচিত্র

কেটে গেলে বিগত সূর্যের দিন
চাঁদের খোলস ফেলে
আমরা প্রজাপতির পাখনার রঙ মাখি, 
আমাদের আগামী সূর্যরা
আত্মকেন্দ্রিক ঝুলবারান্দায় ঝুলে আছে।
নরকের ছাপ নিয়ে যারা
উঠে এসেছিলো আঙুর মদ আর হুরদের আশায়
পৃথিবীর জন্য তাদেরও কান্না ছিলো,
অথচ ভালোবাসার ফসিল ঘেঁটে
আমাদের সূর্যরা এঁকে দিয়ে যাচ্ছে
প্রাগৈতিহাসিক ছাপচিত্র কিছু।
০২/০১/২০১৬
ঢাকা, বাংলাদেশ।